মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: প্রাইস কমিশন গঠন করুন

12

গতকালের যুগান্তরে উদ্বেগজনক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; আর তা হল, কৃষক পর্যায়ে এক কেজি আলু ৮ টাকা ৮৫ পয়সায় বিক্রি হলেও সাধারণ ভোক্তারা তা কমপক্ষে ২২ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

একইভাবে এক কেজি পেঁয়াজ ফড়িয়া ও বেপারি চক্রের কাছে কৃষক গড়ে ১০ টাকা ৯ পয়সায় বিক্রি করতে বাধ্য হলেও ভোক্তা পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৩০ টাকায়। অবাক করা তথ্য হল- কৃষক যে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন গড়ে মাত্র ১০ টাকা ৯ পয়সায়, এর উৎপাদন খরচ অন্যূন ১৫ টাকা। তার মানে প্রতিকেজি পেঁয়াজে গড়ে কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫ টাকা। বিষয়টি অনভিপ্রেত।

দেখা যাচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেনাবেচায় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ে ঠকলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছে। দুঃখজনক হল, কৃষক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করলেও দামের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছেন।
শুধু আলু বা পেঁয়াজ নয়; ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বস্তুত কৃষকের সামনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম মূল্যে কষ্টার্জিত ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়।
কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সরাসরি বাজারে আনার ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাবে না, তা বলাই বাহুল্য। আরেকটি বিষয়- প্রয়োজনের তুলনায় দেশে কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় আলু-পেঁয়াজসহ পচনশীল বিভিন্ন সবজি ও তরিতরকারি সংরক্ষণ করা যায় না।

এসব ফসল উত্তোলনের পর যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীরা নিশ্চয়ই কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে পারত না। আমরা মনে করি, কৃষককে সুরক্ষা দেয়ার জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা উচিত। সরকারিভাবে প্রতিটি ফসলে ২০-২৫ শতাংশ মুনাফা দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করে সেগুলো কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হলে কৃষক লাভবান হবেন এবং তাদের মুখে হাসি ফুটবে।

এজন্য দেশে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার আওতায় একটি ‘প্রাইস কমিশন’ গড়ে তোলা দরকার। বলার অপেক্ষা রাখে না, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষককের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তা না হলে কৃষক বারবার লোকসানের আশঙ্কায় কৃষিপণ্য উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে তা ভোক্তা পর্যায়ে বটেই, দেশের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।

ভাগ