বিদায় বিশ্বাস ভেঙে যাওয়া প্রখর রোদ্দুরে বিশ্বস্ততার নাম “সিয়াম সাদি”

20

বঙ্গবন্ধু এবং সৈয়দ নজরুল যেমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামে কাজ করেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং সৈয়দ নজরুলের ছেলে সৈয়দ আশরাফের সংগ্রামটাও অনেকটা সেরকম। সৈয়দ আশরাফ সে কারণেই বলতে পারেন আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামী লীগ একটা অনুভূতি। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে যখন জরুরী অবস্থা জারি করা হয়, শেখ হাসিনাকে যখন জেলে যেতে হয়, তখন আওয়ামী লীগের এক সংকটকালে তিনি দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আব্দুল জলিল যখন গ্রেপ্তার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১/১১ তে আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের কিছু নেতার সামনে অপশন ছিল-
সেনাবাহিনীর রিমান্ড অথবা দলের সাথে বেঈমানী কিংবা নেত্রীর রাজনৈতিক চরিত্রহনন!
অন্যদিকে,
জাতীয় ৪ নেতার সামনে অপশন ছিল – বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড মেনে নিয়ে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগদান অথবা মৃত্যু।

কে কোনটা বেছে নিয়েছিলেন তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
আর, দলীয় আদর্শ ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে মূল পার্থক্যটা এখানেই!
একজন দক্ষ সংগঠক, একজন নির্লোভ রাজনীতিবিদ, পরিমিত কথার যাদুকর এবং রাজনীতিতে সুস্থধারার অনুসারী হিসেবে তিনি পরিচিতি পান এই সময়টাতেই।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও – সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বুদ্ধিদ্বীপ্ত, সৎ, ত্যাগী, দূরদর্শী, নির্লোভ ও সজ্জন রাজনিতীক ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও ছিলেন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

নিজ দল ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেভাবে নির্লোভ ও সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না।

জননেত্রী ও অন্যান্য সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভদ্রতা বজায় রেখে – দলীয় রাজনীতিকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হয় সৈয়দ আশরাফ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সাধাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত সৈয়দ আশরাফ ছিলেন নির্লোভ ও নিরঅহংকারী। ছিলেন একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। দলের প্রতিও তিনি ছিলেন অবিচল। নেতাকর্মীদের প্রতি অন্তঃপ্রাণ ছিলেন তিনি। তার মধ্যে কোনো অহমিকা, হিংসা বিদ্বেষ দেখিনি। ছোট-বড় সবাইকে সম্মানের চোখে দেখতেন।

উনার ব্যক্তি জীবনেও কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিল না।

১৯৯৬ এর পর থেকে সৈয়দ আশরাফ সবসময়ই আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।
আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন আশরাফ ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অনন্য। রাজনীতির ক্রাইসিস মুহূর্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জটিল পরিস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তদবিরবাজদের থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন তিনি। সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিরল চরিত্র। তার ক্লিন ইমেজে কখনও তিনি কালিমা পড়তে দেননি।
এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি লাভের জন্য রাজনীতি করি না। আমার পিতা সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, নেতার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এটাই আমার রক্ত।’

এটাই সৎ, দেশপ্রেমিক, নির্লোভ, ত্যাগী, বুদ্ধিদ্বীপ্ত, বিচক্ষণ, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফের আসল পরিচয়।

তাই বাঙ্গালী জাতি ও বাংলাদেশের মানুষ – দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে অনেক – অনেক দিন মনে রাখবে।

উনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন সবার হৃদয়ে।

মেহেদী হাসান
জামালপুর প্রতিনিধি

ভাগ