অামার চিন্তা টা হলো পড়াশোনা শেষ  করে কর্মসংস্থান খোঁজা নয়,কর্মসংস্থান তৈরি করা

186

নাঈম আবদুল্লাহ,

জাককানইবি প্রতিনিধি :
ছোটবেলায় আমাদের অজস্র স্বপ্ন থাকে, শখ থাকে, জীবনে অনেক কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থাকে। আর যখন আমরা বড় হতে থাকি, ধীরে ধীরে সব স্বপ্ন- ইচ্ছা,আকাঙ্খগুলো বিবর্ণ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকে আমাদের মাথার ভিতর একটা বিষয় ঢুকিয়ে দেওয়া পড়াশোনা করতে হবে, আরও অনেক পড়তে হবে। আমাদের একদিন অনেক বড় হতে হবে। কিন্তু প্রায়োগিক শিক্ষাটা কতজন নিতে পারছি। এভাবে গতানুগতিক পড়ালেখার গণ্ডি পেরিয়ে প্রায় সবাই ছুটে চলে চাকরির পেছনে। চাকরির জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে অনেকে সফল হয়, অনেকে ব্যর্থ হয়ে মনোবল ভেঙ্গে থমকে দাঁড়ায়। এভাবে বহু প্রতিভাবান তরুণকে জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন থেকে ছিটকে পড়তে দেখা গেছে। তবে সময় বদলেছে, একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল বাংলাদেশে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে তারুণ্যের আগ্রহের গতিপথও। অফিসের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী কোন চাকরি নয়; বহু তারুণ্যের মনোনিবেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। চাকরি করা নয়, উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন বহু যুবকের স্বপ্ন। এই বিষয়ে
ভিন্ন বার্তা কে এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বৈতালী ক্যাফে এর স্বত্বাধিকারী শেখ আফজাল হোসেন শান্ত। সাক্ষাতকার নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাঈম আবদুল্লাহ
ভিন্ন বার্তা : আপনি পড়াশোনা পাশাপাশি ব্যাবসা করবেন এমন সিদ্বান্ত কেন নিলেন?
শান্ত : দেখেন আমাদের দেশের বেকারত্বের হার টা প্রতি বছর ই বাড়ছে। যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এখন সবাই যদি পড়াশুনা শেষ করে কর্মসংস্থানের খুজে বের হয় তাহলে দিন দিন এই জটিলতা টা বেড়েই চলবে৷ তাই আমার চিন্তা টা হলো কর্মসংস্থান খোজা নয় পড়াশুনা শেষ করে কর্মসংস্থান তৈরি করা।
ভিন্ন বার্তা : পড়াশুনোর পাশাপাশি ব্যাবসায়ীক সময় কিভাবে ম্যানেজ করেন?
শান্ত: আমি ক্লাশ শেষ করে আমার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সময় দেই। রাত ১০ টার পর আমি আমার ব্যাক্তিগত পড়াশুনা করি। অতিরিক্ত কোন কাজ না পড়লে এই রুটিন এই পড়াশুনা আর ব্যাবসা দুইটাই ব্যালেন্স করা যায়।
সিএনএস : আরো অনেক ব্যাবসা ছিল তো আপনি কেন রেস্টুরেন্টের ব্যাবসাটা বেছে নিলেন?
শান্ত : বলতে পারেন এটা আমার ছোটবেলার একটি শখ।
ভিন্ন বার্তা : আপনার ব্যাবসয়ায় আপনি কি পারিবারিকভাবে কোন সাপোর্ট পান?
শান্ত: আমার প্রতিষ্ঠান টি টোটালি আমার ব্যাক্তিগত ইচ্ছা আর প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে। তবে এর পিছনে প্রচুর মানসিক সাপোর্ট ছিল, আমার পরিবার, আমার শিক্ষক আমার বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই, বড় ভাই সহ অনেকেই আমাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে।
ভিন্ন বার্তা : ছাত্র অবস্থায় ব্যাবসা এই বিষয়ে যারা কনফিউজড তাদের উদ্দেশ্যে আপনি কি বলবেন?
শান্ত : প্রবল ইচ্ছা ধৈর্য থাকলে আপনি নিঃসন্দেহে শুরু করতে পারেন। তবে শর্টকাটে বড় হওয়ার চিন্তা মাথায় থাকলে আগে থেকেই বাদ দিয়ে দিন। বিলগেটস এর থেকে বড় ধনী হতে আপনাকে খুব বেশী ভাল ছাত্র হতে হবে না। তবে ধৈয্যের্র প্রয়োজন হবে। লেগে পড়ে থেকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুজতে হবে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করা জানতে হবে।
আপনার দ্বারা সৃষ্টি হতে পারে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের। আপনি চাইলেই পারবেন চলমান ব্যবসার নতুন কোন ব্যবসায়িক রুপ দিতে কিংবা নতুন কোন ব্যবসায়ের সৃষ্টি করতে। যেটা আপনার নাম বহন করে এনে দিবে দাসত্বমুক্ত পরিচয়। সফল উদ্যোক্তার পরিচয়।
ভিন্ন বার্তা : ধন্যবাদ
শান্ত :আপনাকেও ধন্যবাদ
ভাগ