সাইফুল রাজুর প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্র পাড়ার লোকেরা

65

এ এম নোমান: সম্প্রতি রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তরুন চিত্র গ্রাহক সাইফুল রাজুর তোলা ছবি নিয়ে তিন দিন ব্যাপি একক আলোকচিত্রী প্রদর্শনী। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের চতুর্থ তলায় এটির প্রদর্শনী হয়। তিনদিন ব্যাপি এ আয়োজনে দর্শনার্থী হয়ে সাংস্কৃতিক কর্মিদের পাশা পাশি সাধারন জনগনও ভীড় জমান। উদবোধনী অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ধ্রুব গুহ এবং তিনি এর ভুয়ষি প্রশংসাও করেন। এছাড়াও নাট্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গন এর কর্মিদের পদচারনায়ও ছিল মুখর। প্রদর্শনীর শেষ দিনে অনেকের মত সেখানে সদলবলে উপস্থিত হন ড্রিমস ইন ফ্রেম এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও তরুন নির্মাতা বোরহান খান-(IMDb)

Borhan Khan and Saiful Raju

তিনি মুলত বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি ও সল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র  নির্মান করে থাকেন। সাইফুল রাজু সম্পর্কে তিনি জানান, “ছেলেটা সপ্ন দেখতে ভালোবাসে। আর ফটোগ্রাফি তো ফিল্ম এরই একটি অংশ। আর আমিও ফিল্ম নিয়ে সপ্ন দেখি। আমাদের উভয়ের পেশাই পিঠাপিঠি ভাবে জড়িত। তাই তার এত ভালো একটা উদ্যোগ। তাকে অভিবাদন না দিয়ে কি পারি। তাই আসলে ছুটে যাওয়া সেখানে।”

সদা হাস্যোজ্জল মুখে থাকা মিষ্টভাষী ছেলে সাইফুল রাজু। ছোট বেলা থেকেই যার সপ্ন বিশ্বমানের আলোকচিত্রী হওয়া। তার সেই সপ্নের ধারাবাহিকতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন। ‘স্বপ্ন বুনি আলোছায়ায়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ প্রদর্শনী শেষ হবে মঙ্গলবার। ঢাকা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে শুরু হতে যাওয়া এ প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি-২’। বাংলাদেশ এর অপরুপ সৌন্দর্য, এদেশের মানুষের বিভিন্ন মন ছুয়ে যাওয়া মুহুর্ত, সংস্কৃতি তার এ প্রদর্শনির ছবি গুলোতে ফুটে উঠেছে। ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক এর কাছে তরুন এ আলোকচিত্রী সাইফুল রাজু বলেন, “যদিও একটা সময় শখের বশে ছবি তুলতাম কিন্তু এখন, ছবি তোলা আমার নেশা। ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমি আমাদের দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই। ইতিমধ্য বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় আমার ছবি গুলো সফিওল ভাবে অংশগ্রহন করছে। এখন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি-২’ শিরোনামে একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করছি। আশা করছি সবাই তা স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করবেন। আর অতীতের মত পাশে থেকে আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবেন। বোরহান ভাইয়া আমার বড় ভাইর মত, তাই তিনি এসেছিলেন আমাকে অনুপ্রেরনা দিতে। পাশাপাশি যারাই এসেছিলেন আমাকে উতসাহ দিতে সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ”। প্রয়াত পিতা আবুল খায়েরের ৫ সন্তানের সংসারে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তার বাবা গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারান। বাবাকে উতসর্গ করার কারন জানতে চাওয়ায় তিনি জানান, “বাবা সবসময় আমাকে অনুপ্রানিত করতেন আমার সপ্নকে বাস্তবায়ন করতে, সপ্নের লক্ষে ছুটতে। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে সবসময় তাকে মিস করি। কিন্তু তার অনুপ্রেরনা কখনো ভুলি নি। আজ এই পর্যন্ত আসার পেছনে আমার বাবার অবদান অনেক। আমার বিশ্বাস দূর আকাশের তারার মাঝ থেকে বাবা আমার এই কার্যক্রম দেখে মিটিমিটি হাসছেন আর গর্ববোধ করছেন”। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার ইনষ্টিটিউটে (বিসিআই) কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। গতকাল শেষ দিনে সকলের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার সাথে এ প্রদর্শনিটি সমাপ্ত হয়।

এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার এডিটর হালিম আহমেদ অতিশ, গ্রীন ভিশন ইভেন্টস এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আজিম মোল্লা, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জান্নাতুল তাসনিম, চিত্রগ্রাহক আরমান খান রিফাত, অরন্য জিয়া ও বেশ কিছু মিডীয়া কর্মী। এ সময় উপস্থিত সকলে প্রদর্শনীর ব্যাপারে ডায়রিতে তাদের অনুভুতির কথা জানিয়ে জানিয়ে যান।

সাইফুল রাজুর আলোকচিত্রী প্রদর্শনীতে পরিচালক বোরহান খান এর সেলফিতে বন্দি হলেন সকলে
সাইফুল রাজুর আলোকচিত্রী প্রদর্শনীতে পরিচালক বোরহান খান ও তার সঙ্গীরা ছবি উপভোগ করছেন

করছেনভিন্ন বার্তা/ঢাকা/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

ভাগ