শতাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত দিল্লির ৬২ বছর বয়সী নারী ডন গ্রেফতার

25
তার বয়স ৬২ বছর। আসল নাম বসিরন। কিন্তু এই নামে তিনি যতটা পরিচিত তার চেয়ে বেশি পরিচিত ‘মাম্মি’ নামে। তিনি দিল্লির নারী ডন, অন্ধকার জগতের মাম্মি। খুন, অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র-মদের কারবার, চাঁদাবাজির মতো শতাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্যাং চালানোর পর ৬২ বছর বয়সে গ্রেফতার হলেন তিনি।
পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকলেও তাকে ধরার সাধ্য হয়নি এতদিন। ভারতের ভয়ঙ্করতম পাঁচ মহিলার অন্যতম একজন হচ্ছেন ‘মাম্মি’। বারবার আদালতে হাজিরার নির্দেশ অমান্য করে গেছেন মাম্মি নামে পরিচিত বসিরন। দিল্লির সঙ্গম বিহার অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য তার।
তার সম্পত্তি সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে সঙ্গম বিহার থানায় গোপন সূত্রে একটি খবর আসে, সেই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে সঙ্গম বিহারে নিজের আট ছেলের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।
দিল্লি পুলিশের ডিসি সাউথ রোমিল বানিয়া জানিয়েছেন, খবর পেয়েই অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়। সঙ্গম বিহারের পুলিশ অফিসার উপেন্দর সিংহের নেতৃত্বে গোপনে অভিযান চালানো হয়। সূত্রের খবর সত্যি ছিল। জালে ধরা পড়েন বসিরন ওরফে মাম্মি।
উপেন্দর বলেন, আশা করা যায় এ বার মাম্মির গ্যাংয়ের অন্য সদস্যরাও জালে পড়বেন।
মাম্মি’কে জালে ফেলার চেষ্টা এর আগেও করেছে দিল্লি পুলিশ। খুন, অপহরণ, মারধর-সহ সব মিলিয়ে পুলিশের খাতায় ১১২টি অভিযোগ রয়েছে এই লেডি ডনের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রতিবারই আইনের জাল কেটে আর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছেন তিনি। অবশেষে মাস সাতেক আগে একটি খুনের পর থেকেই কার্যত হাত ধুয়ে বসিরনের পিছনে পড়ে পুলিশ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিরাজ নামে এক ব্যক্তিকে খুনের সুপারি নেয় মাম্মি গ্যাং। তাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সাত দিন পর উদ্ধার হয় দেহ। সাক্ষ্য প্রমাণ হাতে আসায় মাম্মির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। কিন্তু বারবার ডাকা সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
যেভাবে লেডি ডন হয়ে উঠলেন বসিরন
পুলিশ সূত্রে খবর, বসিরনের আদি বাড়ি রাজস্থানে। রুজি-রুটির টানে সাদামাটা এই গৃহবধূ আটের দশকে মাত্র ১৬ বছর বয়সে চলে আসেন দিল্লিতে। খাবার, আশ্রয়ের জোগান নিশ্চিত করতে প্রবেশ করেন অন্ধকার জগতে। চুরি দিয়ে শুরু। বাকিটা আর পাঁচটা সন্ত্রাসীর মতোই গ্যাং তৈরি করে নাটের গুরু হয়ে ওঠা।
আর এখন হয়ে ওঠেছেন এলাকার ত্রাস। এলাকায় থাকতে গেলে তার কাছ থেকেই জল কিনে খেতে হবে। সঙ্গম বিহার এলাকায় একাধিক সরকারি জলের কুয়ো তার দখলে। সেখান থেকে চলে জলের ব্যবসা। সঙ্গম বিহার তো বটেই, সংলগ্ন আরো কিছু এলাকাতেও একচ্ছত্র জলের কারবার রয়েছে তার।
বসিরনের আট ছেলে। সুপারি নিয়ে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেটের মতো একাধিক অপরাধে পুলিশের খাতায় নাম উঠেছে তাদেরও। -আনন্দবাজার ও এনডিটিভি
ইত্তেফাক/ জেআর
ভাগ