তৃণমূলের জায়া চালকে পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপির জয়

16

সৌমেন শীল, কলকাতা: ছিলেন অভিনেতা, এখন তিনি জননেতা। জনপ্রিয়তার দৌলতে এই মুহূর্তে রাজনীতির অনেক তারকা ব্যক্তিকেই পিছনে ফেলে দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ নজর কেড়েছে রাজ্যের শাসকদলের। পালটা জবাব দিতে তাঁর স্ত্রীকেই মাঠা নামিয়েছে শাসক তৃণমূল। যদিও সেই সকল বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির জনপ্রিয় এই নেতা।

আরও পড়ুন- বিজেপির জয়কে জবাব দিতে স্ত্রী অনন্যাকে মাঠে নামাল তৃণমূল

যাকে নিয়ে এত আলোচনা তিনি হলেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পদ্ম শিবিরের রাজ্য স্তরের এই নেতা নিজ গুণে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। নিত্যদিন সভা এবং দলের সংগঠন বৃদ্ধি করেই রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম স্থানে উঠে এসেছেন জয়।

নিত্যদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জয়ের নানাবিধ ক্রিয়াকলাপ নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এবং একইসঙ্গে বিজেপি বিরোধী প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের নিচু তলার কর্মীদের গেরুয়া শিবিরে যোগদান করানোটাও চোখে পড়েছে রাজ্যের শাসকদলের। জয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপিকে মাস্টার স্ট্রোক দিতে জায়া অনন্যাকে আসরে নামিয়েছে তৃণমূল। জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে রুখতে তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বড় হাতিয়ার ঘাস ফুল শিবিরের। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপি নেতা জয় কোথায় কোথায় সভা করছেন সেদিকে নজর রাখতে। সেই সকল জায়গাতেই অনন্যা দেবীকে দিয়ে পালটা সভা করানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক চালকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পালটা সভার বিষয়ে তিনি বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে আমার প্রতিপক্ষ একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ তৃণমূলের শেষ কথা উনিই বলে থাকেন।” ‘তৃণমূলের একটাই পোস্ট এবং তা হল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বাকি সবই হচ্ছে ল্যাম্পপোস্ট।’ বামেরা একসময় এই ভাষাতেই আক্রমণ শানাতেন ঘাস ফুলের নেতানেত্রীদের। সেই একই সুর শোনা গিয়েছে জয়ের গলাতেও। তিনি বলেছেন, “তৃণমূলের ল্যাম্পপোস্ট গুলোর আমার কাছে কোনও গুরুত্ব নেই।”

সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার হুমকি এবং পালটা হুমকির সাক্ষী থেকে বঙ্গ রাজনীতি। সেক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল বিজেপির রাজ্য নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। সেই বিষয়ে জয় বলেছেন, “বীরভূমে রাজনৈতিক লড়াইটা অনুব্রত বাবুর সঙ্গে আমায় করতে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে আমাদের বাকযুদ্ধ হয়েছিল।” রাজনীতিক অনুব্রত মণ্ডল এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মধ্যে ফারাক করেছেন জয়।

ভাগ