ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২৩টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

48
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জয়দেবপুর-চন্দ্র-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের চারলেনের উন্নীতকরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপ আঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এ উন্নয়নের ছোয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পাবে। এখন থেকে যতগুলো সড়ক-মহাসড়ক কাজ হচ্ছে তার পাশে আলাদা লেন করা হচ্ছে। সেগুলোতে স্থানীয় যানবাহন চলবে। এতে করে ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নের যোগাযোগ করা যায়। যোগাযোগ যাতে আরও উন্নত করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত ৭০কি.মি. রাস্তার ২৩টি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কন্সফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এই সেতুগুলো উদ্বোধন করেন। একই সাথে ফেনীর ‘ফতেপুর রেলওয়ে ওভারপাস’ও উদ্বোধন করা হয়।

১৫ আগস্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি একটি পরিবারকে হত্যা করেছে তারা। একদিনে আমরা সব হারিয়েছি। ৬ বছর বাংলাদেশে আসতে পারেনি। যে জাতীর জন্য আমার বাবার জীবন দিতে হয়েছে সেই জাতীর ভাগ্যের উন্নয়ন করাই ছিল আমার এক মাত্র লক্ষ। সেই লক্ষ নিয়ে রাজনীতি করছি। স্বজন হারা বেদনা নিয়ে আমাকে সব সময় চলতে হয়। আমাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি। তারপরও সকলের সহযোহিতায় দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান।

২৩টি সেতুর মধ্যে লতিফপুর সেতু, উত্তর হিজলতলী সেতু, টানসূত্রাপুর সেতু, সোহাগপুর সেতু, দেওহাটা-২ সেতু, দেওহাটা-৩ সেতু, পোস্তকুমারী সেতু, সুবল্লা সেতু, আকলিমা সেতু, পাকুল্লা সেতু, জামুর্কি সেতু, আমলাপাড়া সেতু, কবুতাবাই সেতু, মাদুরদনি সেতু, খারজানা সেতু, আমপুর সেতু, কান্দিলা সেতু, শিবপুর সেতু, বিক্রমপুহাটি সেতু-১, বিক্রমহাটি সেতু-২ রসুলপুর সেতু, পুংলী সেতু এবং পালু সেতু। এই সেতুগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

এই সেতু গুলো উদ্বোধন হওয়ায় আসন্ন ঈদে এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা নির্বিগ্নে তাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারবে। অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত ৭০কি.মি. রাস্তার প্রায় ৮০ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

ভিডিও কন্সফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল অংশে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, অনুপম শাহজাহান জয়, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ারা বেগম, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, চারলেন প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক জিকরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম প্রমুখ।এতে বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক মানেই ঈদে ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা। বিগত কয়েক বছর যাবৎ মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় উত্তরবঙ্গসহ ২৩টি জেলার মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ নাই। মহাসড়কের উন্নয়ন মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিলো। টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত প্রায় ৭০কি.মি. এলাকা জুড়েই ছিলো রাস্তা খানাখন্দ আর নানা প্রতিবন্ধকতা।

ফলে প্রায় প্রতিদিনই যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পরতে হতো সাধারণ যাত্রী ও গাড়ি চালকদের। অন্যদিকে ৫ ঘণ্টার রাস্তা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতো গন্তব্যে পৌছাতে। বর্তমানে মহাসড়কের ২৩টি সেতু সম্পূর্ণ হওয়ায় চারলেন প্রকল্পের প্রায় ৮০ভাগ রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে।

এবারের আসন্ন ঈদে ব্রিজগুলো ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় রাস্তায় আর তেমন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না। ট্রাফিক পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারী আর মহাসড়কের পাশে গরুর হাট না বসালে দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন ভোগান্তি কাটিয়ে ঈদে নিরাপদে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ গন্তব্যে পৌছাতে পারবে বলে জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী আমিমুল এহসান বলেন, মহাসড়কের ২৩টি সেতু খুলে দেয়ার কারণে এবারের ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি ছাড়াই এ সড়ক দিয়ে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যেতে পারবেন।

ভাগ