ডায়াবেটিক রোগীদের উপযোগী কালো চাল

10

ডায়াবেটিক রোগীদের কথা চিন্তা করে কালো চাল থেকে বীজ উৎপাদন করেছেন কুমিল্লার এক কৃষক।
মনাগ্রামের কৃষক মনজুর হোসেন এ ধান চাষ করেন। এই নতুন জাতের ধান দেখতে উৎসুক মানুষ মাঠে ভিড় করছেন। এই চালের ভাত ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়া উদ্ভাবনী কৃষক মনজুর হোসেন বলেন, কৃষি গবেষক ড. আখতার হামিদ খান ধান উৎপাদনে কুমিল্লার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। কুমিল্লার মাঠ তিনি ফুল ফসলে ভরিয়ে দিয়েছেন। ড. আখতার হামিদ খানের কাজ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি পাম গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির ফল আর ধান চাষ করে থাকেন। জাপানের কালো চাল সংগ্রহ করেন। যা প্রতি কেজি এক হাজার টাকা। সেখান থেকে অনেক যত্ন করে বীজ উৎপাদন করেছেন। কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো চাল উৎপাদনে মনোযোগী হয়েছেন। অনেকে বিদেশ থেকে উচ্চ দামে চাল কিনে খায়। এছাড়া ভারতের আসাম, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার কালো চালের ধান সংগ্রহ করে চাষ করছেন। কালো চাল উৎপাদন ভালো হলে কৃষিতে নতুন গতি আসবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি উৎপাদন বাড়িয়ে কম দামে মানুষের মাঝে কালো চাল বিতরণ করতে চান বলেও জানান।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছরব্যাপী ফল প্রকল্পের পরিচালক ও ধান গবেষণায় বিশেষজ্ঞ ড.মেহেদী মাসুদ বলেন, কৃষক মনজুর যা করেছেন তা ব্যতিক্রম। তিনি বিজ্ঞানীদের কাজ করেছেন। কিছু চালের ভ্রুণ নষ্ট না হওয়ায় তিনি তা থেকে বীজ উৎপাদন করতে পেরেছেন। এছাড়া কালো চাল অনেক উপকারী।

 এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) অনেক কম। জিআই যত কম হয় সেই খাবার শরীরে জন্য তত উপকারী। গ্লুকোজের জিআই ১০০ভাগ, চিনির ৮০ভাগ, সাদা চালের ভাতের ৭২ভাগ, গমের আটার রুটিতে ৬৫ভাগ আর কালো চালের জিআই মাত্র ৪২ভাগ। কালো চালের বিষয়টি দেশে গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। কৃষিমন্ত্রীও এই চাল উৎপাদনে তাগিদ দিয়েছেন। কালো চাল ভালো উৎপাদন হলে রোগ প্রতিরোধের সাথে তা কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কৃষিবিদরা জানান, এই চালের ভাত অটোমেটিক ভাবেই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী হবে। অপরদিকে অন্য চালের ভাতে স্বাভাবিক যে ফ্যাট থাকে এই কালো চালের ভাত তা থেকে কিছুটা মুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচেছ। তারা বলেন, কৃষক মঞ্জুর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ভাগ