জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার

14

এম এ ইউসুফ আলী, রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পাঁচটি (রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া, চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া) ইউনিয়নের অবস্থান ।রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া এই তিন ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল থাকলেও চরমোন্তাজ ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চালিতাবুনিয়া থেকে উপজেলায় যাতায়াতের জন্য তাদের পাড়ি জমাতে হয় আগুনমুখা নদী দিয়ে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে এই নদী পাড়ী দিয়ে পার হতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩.৩৬ বর্গ কিলোমিটারের এই ইউনিয়নে ১০৫০৩ জন হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। তাদের সকল প্রকার কাজের জন্য উপজেলায় যেতে হয়। থানা, ব্যাংক, চিকিৎসা, ছাত্র/ছাত্রীদের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে দিনে রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিয়ে পার হতে হয় এই আগুনমুখা নদী। দৈনিক দুইবার যাতায়াত করার জন্য রয়েছে ইঞ্জিনচালিত ছোট একটি ট্রলার। যা সকাল ৯.০০ ঘটিকায় চালিতাবুনিয়া থেকে রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং দুপুর ২.৩০ টায় আবার চালিতাবুনিয়া ঘাটে আসে।
যদি কেহ এই ট্রলার ঘাটে সময় মত থাকতে না পারেন তবে তাকে এক দিনের ভোগান্তী গুনতে হয়। তার পারাপারের অন্য কোন পথ নেই।
নদী যখন শান্ত থাকে তখন পারাপারের জন্য সুবিধা থাকলেও বর্ষার মৌসুমে নদীতে অনেক তুফান থাকে। যার কারণে জনসাধারণ পারাপারের জন্য বড়ই বিপাকে পরে।

কথা হয়েছিল খেয়ামাঝি মোঃ ছলেমান গাজীর সাথে। পারাপারের সময় নদী ও যাত্রীর অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারের সময় যাত্রীদের কান্না-কাটির ধুম পরে যায়।মহিলা যাত্রীদের মাঝে এমনটা বেশি দেখা যায়।

কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বললে তাদের মধ্যে একজন বলেন, “মায়রে দ্যাখতে আইছিলাম, এহনো কইজ্জা কাপতাছে মনে করছিলাম আর কুলে আইতে পারমুনা। আল্লাহ মুখের দিকে চাইছে তাই কুলে আইছি। বাইচ্চা থাকলে আর বর্ষাকালে আমুনা বাহের বাড়ি।”

স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান গাজীর সাথে এ বিষয় আলাপ করলে তিনি বলেন, বর্ষার মৌসুমে একটু ঝুঁকি নিয়ে পাড় হতে হয়। তবে আমি বর্ষার মৌসুমে বড় ট্রলার (বোট) দেয়ার জন্য বলছি।

চালিতাবুনিয়াবাসীর ভাগ্যের আকাশে কোন দিন কি সুখের সূর্য আদৌও উঠবে? নাকি এমনিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুকের কষ্ট চাঁপা দিয়ে আগুনমুখার ঢেউ সয়ে যাবে নিরব মনে!

ভাগ