জামিন চাইলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি রানা! আবেদন শুনানির রায় ৫ সেপ্টেম্বর

315
ছবিগুলি কপিরাইট করা থাকতে পারে

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা জামিন আবেদন করেছেন। বুধবার (৮ আগস্ট) টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়েরা জজ মাকসুদা খানের আদালতে রানার জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

আদালত জামিনের আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জামিন শুনানিতে এমপি রানার আইনজীবী আব্দুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লা ও টাঙ্গাইল এডভোকেট বার সভাপতি ফারুক আহমেদ আদালতকে বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে এমপি রানা কারাগারে রয়েছেন। তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য। কারাগারে থাকায় তার নিজ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া তার শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। জামিন মঞ্জুর করা হলে মুক্তি পেয়ে তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

জামিন আবেদনের বিরোধীতা করেন রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম, আব্দুল গফুর ও হুমায়ুন কবীর।

তারা আদালতকে জানান, এই মামলায় দুইজন আসামি এবং তিনজন স্বাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে ফারুক হত্যাকাণ্ডে এমপি রানার প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে। মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি জামিন পেলে স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারেন। এতে স্বাক্ষ্যগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হন একই বছরের ২৪ আগস্ট। তিনি দশ দিনের রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উভয় আসামির জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই খুনে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়।

এ খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তখনকার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন।

ভাগ