জাতীয় আয়কর মেলা শুরু : চার কোটি মানুষের কর দেয়া উচিত —অর্থমন্ত্রী

15

ঢাকাসহ দেশব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলা শুরু হয়েছে গতকাল। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের চার কোটি মানুষের কর দেয়া উচিত। বর্তমানে দিচ্ছেন মাত্র ২০ লাখের মতো মানুষ। বেশি মানুষ আয়কর দিলে সরকারি সেবা আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। এজন্য সবার আয়কর জমা নিশ্চিত করতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, শুধু ঢাকা নয়, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এ মেলা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বুথে স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সরকারকে জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়েই দেশের উন্নয়ন করতে হয়। একজনের সম্পদের একটি অংশ থেকে অন্য একজনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। ফলে সরকারকে অর্থসংস্থান দেয়ার জন্য সবাইকে কর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, রূপকল্প বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। দেশের উন্নয়নের জন্য মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করে এনবিআর। পদ্মা সেতু, উড়াল সড়কসহ বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে তাকিয়েই মানুষের কর দেয়া উচিত। আয়কর মেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে করদাতারা কর প্রদান ও সেবা গ্রহণ করছেন। এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার প্রথম দিনে ঢাকা ও আট বিভাগীয় শহরসহ ১৯টি স্থানে আয়োজিত মেলা থেকে ২১৮ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এবারের মেলার প্রথম দিনে আগের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছে এনবিআর। প্রথম দিনে সারা দেশে আয়কর সেবা নিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৮১ জন করদাতা, যা গত বছরের প্রথম দিনে ছিল ৭৯ হাজার ১১২। প্রথম দিন আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৪৬ হাজার ৪০১ জন করদাতা, যা গত বছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৯৫৫টি বেশি। আর প্রথম দিনে আয়কর আহরণ হয়েছে ২১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা গত বছর প্রথম দিনে ছিল ২০৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। ১৩-১৯ নভেম্বর ঢাকাসহ আট বিভাগীয় শহর, ৫৬টি জেলা ও ৮৭টি উপজেলাসহ সারা দেশের ১৫১টি জায়গায় এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে এক সপ্তাহ, সব জেলা শহরে চারদিন, ৩২টি উপজেলা শহরে দুদিন এবং ৭০টি উপজেলায় একদিন (ভ্রাম্যমাণ) এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার মেলায় ১০টি বুথে স্মার্ট কার্ড ও ১০২টি বুথ থেকে করসেবা দেয়া হচ্ছে। এসব বুথে করসেবা তথ্য কেন্দ্র, ই-টিআইএন নিবন্ধন, পুনর্নিবন্ধন ব্যবস্থা, রিটার্ন দাখিল, ই-পেমেন্টে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছে। কর পরিশোধের জন্য মেলায় রয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথ। এনবিআরের রাজস্ব আহরণের অন্যান্য খাত শুল্ক ও ভ্যাট বিষয়েও পৃথক বুথ রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। তবে আয়কর মেলা শেষ হলেও ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা।

জানা গেছে, এবারের মেলায় ২০ লাখ করদাতাকে সেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। সর্বশেষ গত বছর আয়কর মেলায় এসে সেবা নিয়েছেন ১৪ লাখ করদাতা।

ভাগ