ছাত্রলীগের নেতা কি শুধু দুই জন?

4184

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সরদার মামুন-অর-রশিদ তার ফেসবুকে বর্তমান ছাত্রলীগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি তার ফেসবুকে এক সাহসী স্ট্যাটাস দেন। যা সম্পূর্ন তুলে ধরা হলো,

আমি আমার দেখা তিনটি কমিটির কথা বলবো। তার আগের কমিটি আমার নিজের চোখে দেখিনি তাই শুনা কথা বলবো না। আর অনুজদের নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করি না।

লিয়াকত ভাই বাবু ভাইয়ের সাথে কিছু দিন ছাত্রলীগ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।তাদের সময় বিরোধীদলে ছিলাম। আমরা কোন মিছিলে সামনে যেতে পারিনি। তবে রাজপথে ছিলাম।তখন তারা আমাদের অনেক সাহস দিতেন বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজনীতি করতে। কর্মীদের খোজ নিতেন। সভাপতি সাধারন সম্পাদকের বাহিরে অনেক নেতাও আলাদা ভাবে কর্মীদের মূল্যায়ন করতেন। একজন কর্মীর অনেক মূল্য ছিল। তাদের কমিটির বেশির নেতা বর্তমানে ভালভাবে রাজনেতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে আছেন। তবে আমার জানামতে তাদেরকে সভাপতি ও সাধরন সম্পাদক যে কোন বিষয়ে সহযোগীতা তারা সহযোগীতা চাইলে তারা করতে এবং এখনও করেন। সেখানে গ্রুপংটা গৌণ।

রিপন ভাই রোটন ভাইয়ের সময়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-সাধরন সম্পাদক ছিলাম। রাজপথে আমার অনেক সহযোদ্ধা ছিল। আমি যাদেরকে সবসময় মিছিলের সামনে দেখেছি তারা বেশির ভাগ ভালো নেই। মনে পরে তিন নেতার মাজারে ছাত্রদল (জিয়া হলের ছাত্রদলের মোস্তাক) আমাদের লক্ষকরে সরাসরি গায়ে গুলি করে দোয়েল চত্তরের কথা, আরো মনে পরে কবি নজরুলের মাজারের পরে করিম সরকারের আমাকে নিষানা করে গুলির কথা। যারা ঐ সময়ে আমাদের সাথে মিছিলে ছিলেন তারা জানেন আমরা কি কাজ দলের জন্য করেছি।

এবার ১/১১এর কথা,
ঐ সময় আমার সাথে নেতাদের মধ্যে টিপু ভাই বাদশাহ ভাই আর কেন্দ্রীয় নেতা জসিম ভাইয়ের সাথে দলীয় কর্মসূচির বিষয়ে আলাপ হতো। তারা বলতে পারবে না তাদের কোন কর্মসুচিতে ভূমিকা রাখিনি।আমার মতো আরও অনধিক২৫জন ছিলেন। নাম লিখবো না কারা ছিলেন। নেত্রী গ্রেপ্তার হবার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন মিছিল করেছি আপনারা অনেকে দেখেছেন। ঐসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি ছাড়া সব কর্মসূচিতে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এখন অনেক ছবি দেখ১/১১এর। কিন্তু এখানের ৯৫%ছবি রাজনৈতিক অবস্থা শিথিল হবার পরের সেখানে আমাদের ছবি কম কারন আমরা দুঃসময়ে সামনে আর সুসময়ে পিছনে।

২০০৮ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলকে দুই কারনে বের করে দেই।তারপর আজ পর্যন্ত ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেনি। কিছু লোক তা জানেন বাকিরা জানেন না।

১-ছাত্রদলের কমিটি হয় ২১আগস্টে নেত্রীর উপর গ্রেনট হামলা কারীর ভাইকে দিয়ে
২-বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি করে. ৭৫ নিয়ে বাজে ভাষায় যারা মিছিল করেছে তাদেরকে দিয়ে।
যখন বিরোধী দলে ছিলাম মনে মনে বলতাম যদি ক্ষমতায় আসি তোমরা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে পারবা না। সুযোগ পেয়েছি কুলাঙ্গারদের বের করে দিয়েছি। যদিও প্রভাবশালী একজন ছাড়া অন্যরা ঐ দুই দিন বিশ্ববিদালয়ে আসেন নি। আর এটা ছিল প্রথম ভূল। এতে যাদের মূল ভুমিকা ছিল তাদের একজন ক্ষুদ্র একটি চাকরি করেন বাকিরা ভালো নেই।

এই কমিটির কিছু লোক নিজ যোগ্যতায় ভালো থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর তাদের কিছু my man ভালো আছেন। বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে কি মানবেতর ভাবে আছেন তা তারা খোজ ও নেন না।
এটা বলতে ঘৃনা হয় আমরা মাত্র ২৫-৩০ জন ১/১১এ সব সময় মাঠে ছিলাম।তাদের বিষয়ে কি খোজ নেন তা জানি না আমাকে তারা দুই কোন দিন ফোন দেয় সরকার ক্ষমতায় আসার পরে।১/১১ তে রিপন ভাই বেশ কয়েক বার ফোন করে সাহস দিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরে না। টিপু ভাই বাদশাহ ভাই ঐ সময় আমাদের খুব খোজ নিতেন। ক্ষমতায় আাসার পরে তাতে ভাটা পরে

এবার সোহাগ-নাজমুল কমিটি।
এই কমিটির সময় বি এন পির জ্বালাও পোরাও আর হেপাজতের ঝামেলাটা ছিল। তারা খুব ভালোভাবে সে সময় দলের কাজ করেন। সিটি নির্বাচনের সময় দুঃসাহসী এক ঘটনা ঘটে। আর তা করেন মাঠের কিছু আবেগী কর্মীরা। তারা দু জন চরম ক্ষমতার মালিক। তারা কেন কাজ করবেন। তারা আদেশ করবেন কর্মীরা কাজ করবেন।তারপর আর কর্মীদের খোজ নিবেন না। তারা তাদের চোখে কমলা। কর্মী ভাবতে পারেন না। আবার কে কার লোক তাও হিসেব।একজন বিদেশ বসে facebook এ লিখেন আর একজন দেশে তার রজনীতি করেন। আমরা যে তার ২২১জন (প্রথম প্রকাশিত) তার সহযোদ্ধা ছিলাম তা ভুলে গেছেন।

দু জন ছাড়া অন্যদের বলব আপনারা আজীবন কর্মী তারা আজীবন নেতা। কিন্তু আপনার শ্রমের মূল্য যদি তারা নেয় আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। এছাড়া আপনার আমার বলার কিছু নাই।বলতে গেলে —-
(আমার বাস্তব জীবন থেকে। আমি মাঠের কারো নাম না লিখতে পারার জন্য sorry)

সরদার মামুন-অর-রশিদ
সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

ভাগ