কারা হচ্ছেন ছাত্রলীগের কান্ডারী?

81

নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে অবশেষে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। আগামী ৩০ এবং ৩১ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন।তার আগে ছাত্রলীগের তিনটি প্রভাবশালী ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।ফেব্রুয়ারীর ২৫ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যেই এসব শাখার সম্মেলন হবে বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে।খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে একারণে সম্মেলন পেছাবে বলে অনেকেই প্রচার করলেও সেই পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় আগের সময়ই সম্মেলন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও ছাত্রলীগের অভিভাবক শেখ হাসিনা।বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইনকে দ্রুত সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

প্রতিবারের মত এবারও ছাত্রলীগের একটি “সিন্ডিকেট” তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে বেশ তোরজোড় চালাচ্ছে।তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবং বর্তমান কমিটির উপর শেখ হাসিনার একধরণের অনীহার কারণে ওই সিন্ডিকেট অনেকটা অসুবিধায় আছে।সোহাগ-জাকিরের নেতৃত্বের দূর্বলতা,সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে দৃশ্যমান বিবাদ,সারাদেশে ছাত্রলীগের বিশৃঙ্খলা,মিডিয়ায় নানা বিতর্কিত মন্তব্য এবং অদক্ষতার কারণে সিন্ডিকেটের চয়েসকে দূর্বল মনে করছেন শেখ হাসিনা।একারণে নিজেই যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ তিনজন নেতাকে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে যোগ্যদের বের করে নিয়ে হাজির হতে বলেছেন। এই দায়িত্বে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কিছু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকায় এবং সামনে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি জাতিীয় নির্বাচন থাকায় এবার ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে ঘোর আওয়ামীলীগ পরিবার থেকে নেতা নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।পরিবারের কেউ জামাত কিংবা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলে তাদের প্রাথমিকভাবেই বাদ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এজন্য আগে থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার লোক দিয়ে পরিবারকে যাচাই করার জন্যও বলা হয়েছে।এছাড়াও বুদ্ধিমান,কর্মঠ,পরিশ্রমী ও সাহসীদের বের করে নিয়ে আসার তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে “বঙ্গ” এবং অঞ্চলের প্রভাব দৃশ্যমান।দীর্ঘদিন সিলেট অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ না থাকায় সেখানকার ছাত্র রাজনীতিকে চাঙ্গা রাখতে জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল বলে অনেকেই মনে করেন।তাই এবার এমন একটি অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে যেখানে আওয়ামীলীগ তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী এবং ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে নিকট ভবিষ্যতে কেউ ছিলেননা।এইদিক বিবেচনায় বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ থেকে একজন শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন বলে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের অনেকেই জানিয়েছেন।এছাড়া আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনীতিতে আসায় এবং রংপুর অঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই অঞ্চলকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন অওয়ামীলীগ নেতারা।জাতীয পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে একজন আসলে এই অঞ্চলের আওয়ামীলীগের রাজনীতি অনেক চাঙ্গা হবে বলে জানিয়েছেন অনেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

ছাত্রলীগে মূলত বরিশাল,মাদারীপুর,চট্রগ্রাম,খুলনা,বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ এবং সিলেট অঞ্চলের প্রভাব দেখা যায়।এবারও এর ব্যতিক্রম হবেনা।এসব অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে জোর তদবির এবং নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

উত্তরাঞ্চল থেকে কয়েক ডজন বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা এবার প্রার্থী হলেও শেখ হাসিনার দেয়া মাপকাঠিতে প্রাথমিকভাবেই অনেকে বাদ পরে যাবেন। পরিবারের আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্ঠতার বিবেচনায় নিলে এই অঞ্চল থেকে সবচেয়ে আলোচনায় থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সদস্য রেজোয়ানুল হক চোধুরী শোভন এবং উপ-মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক আল মামুন। শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।শোভনের দাদা শামসুল হক চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ১৯৭০ সালের গণিপরিষদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। আর মামুনের বাবা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।১৯৭১ সালে তিনি গাইবান্ধা জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।এছাড়াও এই অঞ্চল থেকে বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-আইন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন,উপ-আইন সম্পাদক বিদ্যুত বেশ আলোচনায় আছেন।

বৃহত্তর মাদারীপুর অঞ্চল থেকে আলোচনায় অাছেন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।রাব্বানী সবচেয়ে অালোচনায় অসেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করায় ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।রাব্বানীর বাবা আওয়ামীলীগের কোনো পদে না থাকলেও মনেপ্রাণে ভালবাসেন বঙ্গবন্ধুকে।ছাত্র সমাজের কাছে রাব্বানীর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে সামাজিক নানা ভাল কাজের মাধ্যমে।এছাড়াও এই অঞ্চল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান,কেন্দ্রীয় কমিটির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাতি বিদ্যুত শাহরিয়ার কবির বেশ আলোচনায় আছেন।

নানান বিবেচনায় নেতৃত্ব নির্বাচনে এগিয়ে আছে চট্রগ্রাম অঞ্চল। এই অঞ্চল থেকে এবার এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন,সহ-সম্পাদক জায়েদ বিন জলিল এবং সহ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত।

বরিশাল অঞ্চল থেকে দৌড়ে এগিয়ে অাছেন আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়।জয় এর আগে জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা বরিশালের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা।সুদর্শন ও সুবক্তা হিসেবে ছাত্রসমাজে জয়ের ব্যপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়াও ত্রাণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন,সহ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয় বেশ এগিয়ে অাছেন।

সিলেট অঞ্চল থেকে এগিয়ে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দিন খান,কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম জুয়েল, ধর্ম সম্পাদক খায়ের ও স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।

বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন,উপ-সম্পাদক শেখ আরিফ,আসিফ তালুকদার বেশ এগিয়ে আছেন।

ভাগ