উপজেলা নির্বাচন: বিএনপির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ২০ দল-ঐক্যফ্রন্ট

35

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। মার্চে এ নির্বাচন ঘিরে মাঠ গোছানো শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে ‘শোচনীয়’ পরাজয়ের পর দিশাহারা বিএনপি জোট। সংসদের পর দেশের সবচেয়ে বড় এ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সেটি নিয়ে দোটানায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শরিক দলের নেতারা।

তাদের মধ্যে কোনো কোনো শরিক দল অংশ নেয়ার পক্ষে, আবার কেউ বিপক্ষে। তারা প্রধান শরিক দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যাবে কি যাবে না সে বিষয়ে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে। এর পর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, আমি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলা সংগঠনের কাছ থেকে মতামত চেয়েছি। একাদশ সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। এমন অবস্থায় উপজেলা নিয়ে নেতৃবৃন্দ কি ভাবছেন, সে বিষয়ে মতামত নিচ্ছি। ইতিবাচক মতামত পেলে জাতীয় নির্বাচনের মতো ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি এখনই বলার সময় হয়নি। মতামত নেয়ার পর্যায়ে কেবল আছি। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা নেব।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গেও এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হলে তাতে আপত্তি জানাবে দলটি। এমনকি বিএনপি এমন সিদ্ধান্ত নিলে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে না যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে তো আসতেই হবে। আমার সৌভাগ্য যে, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সবাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা নির্বাচনের বিষয়ে তফসিলের আগেও ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আমরা কোনো দিন রাজনীতি করিনি, এখনও করি না এবং ভবিষ্যতেও করব না।

দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা আগেই পরিষ্কার করে বলেছি- জামায়াতের সঙ্গে আমরা ছিলাম না। বিএনপির সঙ্গে আমাদের জোট হয়েছে, ২০ দলের সঙ্গে নয়। উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হলে গণফোরাম জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না।

বিএনপি সূত্র জানায়, আপাতত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না দলটির হাইকমান্ড। তারা এখন জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশের ‘অনিয়ম ও কারচুপির’ তথ্য সংগ্রহ করছেন। সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার ও হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় ফোরামে এখনও আলোচনাই হয়নি। জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশের অনিয়ম ও কারচুপির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আপাতত সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নামে কি ধরনের নির্বাচন হতে পারে তা দেশের মানুষ কদিন আগে দেখেছে। এর পর আবারও যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তার কি নিশ্চয়তা আছে? এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা-মামলার ঝড় গেছে তা এখনও কাটিয়ে ওঠতে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

সুত্রঃ ‌যুগান্তর

ভাগ