অন্ধকার থেকে ভাসতে ভাসতে আলোর পথে

5

এম এ ইউসুফ আলী, রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নদীপথের চরমোন্তাজ ইউনিয়নের মান্তা সম্প্রদায়ের দুই শিশু শত বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলোয়ে আলোকিত হওয়ার জন্য আজ তারা বিদ্যালয়ে।

যাদের শিশুকাল কিশর কৌশর,জন্ম,মৃত্যু সবকিছুই নৌকায়।

তাই নৌকা কেন্দ্রীক জীবন-যাপন মান্তা সম্প্রদায়ের। ভাসমান এ জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা যেন আকাশের ঐ চাঁদের মত।

শিক্ষা গ্রহনের জন্য তাদের উঠতে হবে ডাঙায়। কিন্তু বংশ পরম্পরায় পানিতে ভাসছে তারা।

বাবা-মায়ের সঙ্গে জীবিকার তাগিদে নদ-নদীতে মাছ ধরে কাটে তাদের জীবন। প্রায় তিন যুগের সেই নিয়ম ভেঙে ডাঙায় উঠেছে দুই ভাই।

তারা পড়ছে চরমোন্তাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।তাদের একজন আবুল কালাম আজাদ (১১)। পড়ছে চরমোন্তাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে। তারই ছোট ভাই আব্বাস হোসেন (৭ )। সেও ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইসের খালে ভাসমান মান্তা পল্লীতে তাদেরও বসবাস। সেখানে চার শতাধিক মান্তার বসবাস। এরমধ্যে প্রায় এক ১০০ শিশু রয়েছে। এরা সবাই নৌকায় বাস করে। সকলে নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

সরেজমিনে স্লুইসের খালের ভাসমান মান্তা পল্লীতে গিয়ে ওই দুই শিশুর সঙ্গে এ কথা হয়।

নৌকায় বসে বই পড়তে থাকা আবুল কালাম আজাদ বলে, ‘আমাগো মধ্যে যারা স্কুলে যায় না হেগো লগে কেউ মেশে না।আমরা যারা স্কুলে যাই হেগো লগে এহন (এখন) সবাই মেশে, কথা কয়। স্কুলের সময় ছাড়া বাব-মা’র লগে আমরা এখনও নদীতে মাছ ধরতে যাই।’

তার পাশে বই হাতে নিয়ে বসে থাকা ছোট ভাই আব্বাস হোসেন বলে, ‘ডিঙিতে দুই ভাই লেহিপড়ি। ঘন্টা দেলে ইস্কুলে যাই।’

এই দুই শিশুর মা জহুরা বেগম বলেন, ‘আমরা পড়াল্যাহা জানি না।লাগলে টিপসই দেই। কিন্তু আমাগো পোলাপান এহন স্কুলে যায়।’

শুধু আবুল কালাম আজাদ, আব্বাস হোসেন নয়, মান্তা পল্লী ঘুরে তাদের মত প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা (৯) ও একই শ্রেণীর পারভীন (৮) বংশ পরম্পরার শৃঙ্খল ভেঙে স্কুলে যায়।

চরমোন্তাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের স্কুলে কয়েকজন মান্তা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। ওরা অন্য শিশুদের মতই পড়ালেখা করে। কোন ধরণের সমস্যা হয় না। অন্যদের মতই পড়ালেখায় ওদের ভালো মনযোগ আছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম সগীর বলেন, ‘মান্তা শিশুদের স্কুলে ভর্তির জন্য শিক্ষককরা অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তারা পড়ালেখা করছে। বাকি শিশুদেরও ভর্তি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো: আলিমউল্লাহ বলেন, ‘মান্তারাও আমাদের মত মানুষ। তাদেরকে আলাদা করে দেখা যাবে না। তাই অন্যদের মত তাদের শিশুদেরকেও স্কুলগামী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি-সবাই স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে।’

ভাগ